হজ ওমরাহ প্রস্তুতি

বিষয়বস্তু সম্পর্কে
এতে হজ ওমরাহ প্রস্তুতি ও এর কার্জক্রম ধাপে ধাপে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। যা
আপনাকে উমরাহ ও হজ পালন করার মূল উপাদানগুলো বুঝতে সাহায্য করবে।
ধাপ ২
ভ্রমণের প্রস্তুতি – স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ
ভ্রমণের আগে সব গুরুত্বপূর্ণ টিকা নিয়ে নিন।
যদি আপনি নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খান, তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখুন।
ঐচ্ছিক – ফেস মাস্ক, ব্যথানাশক, কাশি, সর্দি ও ফ্লুর ট্যাবলেট বা সিরাপ।
মক্কা ও মদিনায় ফার্মেসি সহজলভ্য।
ধাপ ৩
জ্ঞান অর্জন – হজ ও উমরাহ জ্ঞান
জ্ঞান অর্জনের উপায়:
হজ সেমিনারে অংশগ্রহণ করুন
নির্ভরযোগ্য বই পড়ুন
অভিজ্ঞ আলেম বা ইমামের কাছ থেকে শিখুন
অনলাইন লেকচার শুনুন
গুরুত্বপূর্ণ দোয়া মুখস্থ করুন
প্রস্তাবিত বই:
উমরাহ কীভাবে করবেন ?- শায়খ আহমাদুল্লাহ
হজ, উমরাহ ও জিয়ারত – শায়খ আবদুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাজ
হিসনুল মুসলিম বা ফোর্ট্রেস অফ দ্য মুসলিম (বিভিন্ন ভাষায় পাওয়া যায়)
ভালো অ্যাপ ডাউনলোড করুন
সতর্কতা: জ্ঞান ছাড়া অন্যদের অনুসরণ করবেন না। এমন অনেক কাজ হয় (বিদাআত ও শিরক), যা দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও শরিয়ত অনুযায়ী ভুল।
ধাপ ৪
দুনিয়াবি বিষয় মিটিয়ে ফেলা – তাওবা ও ঋণ পরিশোধ
তাওবা:
আপনার সব গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করুন।
বাবা-মা, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীর কাছে ক্ষমা চান।
ঋণ:
আপনার সব ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করুন।
যদি সম্ভব না হয় – ঋণদাতার সঙ্গে সমঝোতা করুন।
আপনার ঋণগুলো সম্পর্কে পরিবারকে অবগত রাখুন।
ধাপ ৫
ভ্রমণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী
যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই কিনুন। অযথা অতিরিক্ত জিনিস কিনবেন না।
প্রাথমিক সামগ্রী:
ইহরাম
ইহরাম বেল্ট
ভালো ও আরামদায়ক স্যান্ডেল (অবশ্যই)
স্যান্ডেল রাখার ব্যাগ (অবশ্যই)
টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট
ডিভাইস চার্জার/পাওয়ার ব্যাংক
সুগন্ধি-মুক্ত ডিওডোরেন্ট, ক্রিম ইত্যাদি
স্লিপিং ব্যাগ (মুযদালিফার জন্য লাগতে পারে)
ছাতা
ভালো মানের পানির বোতল/ফ্লাস্ক
ময়েশ্চারাইজার (হালাল ও সুগন্ধি-মুক্ত)
দ্রষ্টব্য: মহিলাদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট পোশাক নেই; তারা আরামদায়ক পোশাক যেমন বোরকা পরতে পারেন।
সতর্কতা: স্যান্ডেল কেনার ক্ষেত্রে সস্তায় সমঝোতা করবেন না।
ধাপ ৬
হজ ও উমরাহ পরামর্শ – ধৈর্যশীল হওয়া
ধৈর্যশীল থাকা হজ ও উমরাহর একটি বড় অংশ। পুরো সফর জুড়ে আপনার ধৈর্য পরীক্ষা হবে।
অপ্রয়োজনীয় ফিকহি বিতর্কে জড়াবেন না।
হাজরে আসওয়াদ চুম্বনের সুযোগ পেতে গিয়ে রাগ বা হতাশ হবেন না।
মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে নামাজ পড়ার জন্য তাওয়াফে বাধা দেবেন না।
কাউকে কষ্ট দিবেন না, জবান দিয়ে আঘাত করবেন না।
ইনশাআল্লাহ, ধৈর্য ধরার জন্য আপনি পুরস্কৃত হবেন।
ধাপ ৭
আল-হারাম – আল্লাহর ঘরের প্রতি দায়িত্ব
আল-হারামের সীমান্তে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা থেকে বিরত থকুন। আল্লাহর ঘরের প্রতি সম্মান দেখান।
পৃথিবীর পবিত্রতম স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আপনারও।
ধাপ ৮
যাত্রা শুরুর আগে – বাসা থেকে বের হওয়ার আগে
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে:
সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিন।
পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ চেক করুন।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্যাক করুন।
ব্যক্তিগত প্রস্তুতি:
গোসল করে নিন।
অপ্রয়োজনীয় লোম দূর করুন।
নখ কেটে নিন।
গোঁফ ট্রিম করুন ইত্যাদি।
ইহরাম না পরা পর্যন্ত সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন।
প্রস্তাবিত আমল:
বাসায় বা এয়ারপোর্টে ২ রাকাত নফল পড়তে পারেন (সুরা কাফিরুন ও ইখলাসসহ)। ইহরাম পরার আগে বা পরে পড়া যায়।
ধাপ ৯
যাত্রা শুরু – ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
بسمِ الله، توكلتُ على الله، ولا حولَ ولا قوةَ إلا بالله
উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহ, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
ধাপ ১০
উমরাহ – ইহরাম পরিধান
গুরুত্বপূর্ণ: মীকাত পৌঁছানোর আগেই ইহরাম পরতে হবে।
কোথায় ইহরাম পরবেন:
যদি মক্কায় যাচ্ছেন:
বাসা থেকে
শহরের এয়ারপোর্ট থেকে
ট্রানজিট এয়ারপোর্ট থেকে
একবার ইহরাম পরে নিলে সব নিয়ম (নিষেধাজ্ঞা) কার্যকর হবে।
যদি মদিনায় যাচ্ছেন:
স্বাভাবিক পোশাক পরুন, ইহরাম নয়।
মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার সময় মীকাত হবে যুল-হুলাইফা।
আপনার গাড়ি/বাস/কোচ সেইখানে থামবে ইহরাম পরার জন্য।
ধাপ ১১
উমরাহ – সফরের দোয়া
ভ্রমণে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়বেন:
اللَّه أكبر، اللَّه أكبر، اللَّه أكبر، سُبحانَ الَّذي سخَّرَ لنا هذا وما كنّا لَهُ مقرنين، وإنّا إلى ربِّنا لَمُنقلبون، اللَّهُمَّ إنّا نسألُكَ في سفرِنا هذا البِرَّ والتَّقوى، ومنَ العملِ ما ترضى، اللَّهُمَّ هوِّن علينا سفرَنا هذا واطوِ عنّا بُعدَهُ، اللَّهُمَّ أنتَ الصّاحبُ في السّفرِ، والخليفةُ في الأهلِ، اللَّهُمَّ إنّي أعوذُ بكَ من وَعثاءِ السّفرِ، وكآبةِ المنظرِ، وسوءِ المنقلبِ في المالِ والأهلِ.
(আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার। সুব্হা-নাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীনা। ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন। আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস’আলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল-বিররা ওয়াত্তাকওয়া, ওয়ামিনাল ‘আমালি মা তারদ্বা। আল্লা-হুম্মা হাউইন ‘আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়াতউই ‘আন্না বু‘দাহু। আল্লা-হুম্মা আনতাস সা-হিবু ফিস সাফারি ওয়াল-খালীফাতু ফিল আহ্লি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ওয়া‘আসা-ইস্ সাফারি ওয়া কা’আবাতিল মানযারি ওয়া সূ-ইল মুনক্বালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহল)।
(অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি এই বাহনকে আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন, আর আমরা নিজেরা কখনোই তা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম ছিলাম না। আর আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আমাদের এ সফরে নেকি ও তাকওয়া দান করুন, এমন কাজ দান করুন যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন। হে আল্লাহ, এ সফর আমাদের জন্য সহজ করে দিন, এর দূরত্ব আমাদের থেকে সরিয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনি সফরে সঙ্গী আর পরিবারে অভিভাবক। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই সফরের কষ্ট, দৃশ্যের দুঃখ এবং ধ্বংসাত্মক ফলাফল থেকে।)
ধাপ ১২
উমরাহ – ইহরাম পরার পর
এখনই নিয়ত করবেন না।
এখনই তালবিয়া শুরু করবেন না।
নিয়ত ও তালবিয়া শুরু হবে মীকাতের আগে নিয়ত করার সময়।
ধাপ ১৩
উমরাহ – মীকাত পৌঁছানোর আগে
ইহরাম (ফরজ):
মীকাত পৌঁছানোর আগেই ইহরাম পরে নিতে হবে।
ইহরাম পরে কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।
উমরাহর নিয়ত (ফরজ):
اللهم إني أريد العمرة فيسرها لي و تقبلها مني
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফা-ইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।
( হে আল্লাহ, আমি ওমরাহর ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।)
(নিয়ত নিজের ভাষায়ও করা যায়। নিয়ত করার পর থেকেই ইহরামের সব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।)
তালবিয়া (ওয়াজিব):
পুরুষরা জোরে জোরে পড়বেন।
মহিলারা চুপচাপ পড়বেন।
অন্তত একবার পড়া ওয়াজিব, তবে পুরো যাত্রা জুড়ে পড়তে থাকবেন।
ধাপ ১৪
উমরাহ – তালবিয়া (দোয়া)
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
(লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারীকা লাক)।
ধাপ ১৫
উমরাহ – জেদ্দায় হজ টার্মিনালে পৌঁছানোর পর
দীর্ঘ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
টার্মিনালের বাইরে খাবার ও পানীয় পাওয়া যাবে।
আপনার দলের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
এয়ারপোর্টে অবস্থানকালে এবং হোটেলে যাওয়ার পথে তালবিয়া পড়তে থাকুন।
ধাপ ১৬
উমরাহ – হোটেলে যাওয়া
পুরো যাত্রাপথে (এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল পর্যন্ত) তালবিয়া পড়তে থাকুন।
হোটেলে পৌঁছে:
সব জিনিসপত্র রেখে দিন।
খেয়ে, গোসল করে ও বিশ্রাম নিন।
আপনার পরবর্তী কাজ হলো উমরাহ পালন, তাই মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকুন।
দ্রষ্টব্য: আপনার দল নির্ধারণ করবে কবে উমরাহ আদায় করবেন। প্রথমবার হলে তাদের নির্দেশনা মেনে চলুন।
ধাপ ১৭
উমরাহর প্রস্তুতি – অজু
উমরাহর (তাওয়াফ) জন্য অবশ্যই অজু অবস্থায় থাকতে হবে।
হোটেল থেকে অজু করুন।
মসজিদুল হারামে পৌঁছানো পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকুন।
দ্রষ্টব্য: সাধারণত দল একসাথে থাকতে বলবে, কিন্তু ভিড়ের কারণে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এতে মনোযোগ দল সামলাতে চলে যাবে, উমরাহর খুশু কমে যাবে।
পরামর্শ: হারামের বাইরে একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে রাখুন এবং দলনেতাকে জানিয়ে দিন উমরাহ শেষ করে সেখানেই দেখা করবেন।
ধাপ ১৮
উমরাহ – আল-হারাম বোঝা
পরামর্শ:
আল-হারামের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
কোথায় বের হওয়ার পথ ও অজুর স্থান আছে খুঁজে বের করুন।
হারামের ভেতরে সর্বত্র জমজম পাওয়া যায়।
পরিবারের সাথে গেলে ভেতরে ও বাইরে ‘মিটিং পয়েন্ট’ নির্ধারণ করে নিন।
ধাপ ১৯
উমরাহ – আল-হারামে প্রবেশ
নিশ্চিত করুন আপনি অজু অবস্থায় আছেন। (ভেতরে ও বাইরে অজুর জায়গা রয়েছে।)
প্রবেশের নিয়ম:
যেকোনো গেট দিয়ে ডান পা আগে দিয়ে প্রবেশ করুন।
প্রবেশ করার সাথে সাথেই তালবিয়া পড়া বন্ধ করুন।
এই দোয়া পড়ুন:
(بِسْمِ الله)، وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلى رَسُوْلِ الله، اَللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِك।
উচ্চারণ- বিসমিল্লা-হ্, অসসালা-তু অসসালা-মু আলা রাসূলিল্লা-হ্, আল্লা-হুম্মাফ্ তাহ্লী আবওয়া-বা রাহ্মাতিক।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি, সালাম ও দরুদ বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূলের উপর। হে আল্লাহ! আমার জন্য তুমি তোমার করুণার দুয়ার খুলে দাও।(জামে১/৫২৮,মুসলিম, সহীহ১/৪৯৪,ইবনুস সুন্নী ৮৮)
ইচ্ছা করলে দীর্ঘ দোয়াও পড়তে পারেন।
ধাপ ২০
উমরাহ – আল-হারামে প্রবেশ করার পর
কাবা শরীফ দেখলে:
আল্লা-হু আকবার তিনবার , লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তিনবার
সূরা ফাতিহা পড়ুন, হাত তুলে আন্তরিক দোয়া করুন। আরবি বা নিজের ভাষায় দোয়া করতে পারেন।
তাহিয়্যাতুল মসজিদ:
উমরাহ শুরু করার আগে কোনো নফল সালাত নেই।
ফরজ নামাজ:
কেবল ফরজ নামাজ পড়া যাবে, যদি সময় হয়ে যায়।
ধাপ ২১
উমরাহ – তাওয়াফ শুরু
তাওয়াফের প্রস্তুতি নিন ও তাওয়াফের নিয়ত করুন
তাওয়াফ শুরু হয় হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে।
কালো পাথরের বরাবর সবুজ লাইট রয়েছে, সেখান থেকে তাওয়াফ শুরু হয়।
ইহরামের অবস্থান:
ইহরাম ডান কাঁধের নিচ দিয়ে পরে বাম কাঁধে ফেলতে হবে, পুরো সাত চক্করের সময় এভাবেই থাকতে হবে।
শুরুর নিয়ম:
হাজরে আসওয়াদ দিকে ডান হাত উঠিয়ে বলুন:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَر
(বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার)
… তারপর তাওয়াফ শুরু করুন।
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা অধিকাংশ সময় সম্ভব নয়, তাই অন্য হাজিদের কষ্ট দেওয়া গুনাহ। কেবল হাত তুলে ইশারা করলেই যথেষ্ট।
ধাপ ২২
উমরাহ – সাত চক্কর (তাওয়াফ) চলাকালে
পুরো সময় ইহরাম থাকবে ডান কাঁধের নিচে ও বাম কাঁধে।
প্রথম তিন চক্কর:
পুরুষরা জোরে হাঁটবেন (রামল)।
মহিলারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
শেষ চার চক্কর:
সবাই স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
ইয়ামানি কর্নার থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত:
সবাই স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
নির্দিষ্ট দোয়া পড়বেন (পরবর্তী ধাপে দেওয়া আছে)।
ধাপ ২৩
উমরাহ – সাত চক্করের দোয়া
ইয়ামানি কর্নার থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
(রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্কিনা আযাবান্নার।)
(হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়ায় ভালো দান করুন এবং আখেরাতেও ভালো দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।)
অন্য অংশে:
নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই।
কুরআন পড়তে পারেন।
তাসবিহ, ইস্তিগফার করতে পারেন।
পরিবার ও বন্ধুদের জন্য দোয়া করতে পারেন।
সতর্কতা: গ্রুপভিত্তিক দোয়া বা প্রতিটি চক্করের আলাদা দোয়া অনুসরণ করবেন না। আন্তরিকভাবে কান্না করে নিজের ভাষায় দোয়া করুন।
ধাপ ২৪
উমরাহ – তাওয়াফ চলাকালে অজু ভেঙে গেলে
তাওয়াফের জন্য অজু অবস্থায় থাকা জরুরি।
অজু ভেঙে গেলে কাছাকাছি অজুর স্থানে গিয়ে অজু করুন।
আবার শুরু থেকে নয়, যেখানে শেষ করেছেন সেখান থেকে চালিয়ে যান।
উদাহরণ:
যদি ৩ চক্কর সম্পন্ন করার পর ৪র্থ চক্করে অজু ভেঙে যায়, তবে অজু করে বাকি ৪ চক্কর শেষ করবেন।
ধাপ ২৫
উমরাহ – সাত চক্কর শেষ হওয়ার পর
এবার ইহরাম দিয়ে দুই কাঁধ ঢেকে ফেলুন।
মাকামে ইবরাহিমের পেছনে ২ রাকাত নামাজ:
সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাসসহ পড়ুন।
ভিড় থাকলে হারামের যেকোনো স্থানে পড়তে পারেন।
জমজম পানি পান:
পান করুন, মুখে ও শরীরে লাগান এবং দোয়া করুন।
যতবার সম্ভব জমজম পান করবেন।
জমজম পান করার দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
(আল্লাাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান না ফি‘আ, ওয়া রিযক্বন ওয়া সি‘আ, ওয়া শিফা আম মিন কুল্লি দা ইন।)
(হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সব রোগ থেকে আরোগ্য চাই।)
ধাপ ২৬
উমরাহ – সাফা পাহাড়ের দিকে যাওয়া
কাবার দিক থেকে সাফা পাহাড়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়ুন:
بِسْمِ اللَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
(অর্থ: আল্লাহর নামে, রাসূলুল্লাহর উপর শান্তি ও দরূদ। হে আল্লাহ, আমি আপনার অনুগ্রহ চাই।)
সতর্কতা: সায়ী শুরু করার সময় দুই কাঁধ ইহরাম দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
সাফার কাছে পৌঁছে এই আয়াত পড়ুন:
সূরাঃ আল-বাকারা [2:158]
إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِ فَمَنْ حَجَّ ٱلْبَيْتَ أَوِ ٱعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
ইন্নাসসাফা-ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আ-ইরিল্লা-হি ফামান হাজ্জাল বাইতা আবি‘তামারা ফালা-জুনা-হা ‘আলাইহি আইঁ ইয়াত্তাওওয়াফা বিহিমা-ওয়ামান তাতাওওয়া‘আ খাইরান ফাইন্নাল্লা-হা শাকিরুন ‘আলীম।
নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত হবেন এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।
ধাপ ২৮
উমরাহ – সাফায় পৌঁছে
সাফা পাহাড়ের উপরে উঠে কিবলার দিকে মুখ করে তিনবার এই দোয়া পড়ুন:
এরপর কা‘বাকে সামনে রেখে প্রার্থনাকারীর ন্যায় দু’ হাত উপরে তুলে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে তিনবার তাকবীর পড়ুন (আল্লাহু আকবার বলুন)। তিনবার করে দো‘আ করা হচ্ছে সুন্নাত। অতঃপর তিনবার নিম্নোক্ত দো‘আ পড়ুন:
«لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْد يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كَلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَه».
(লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল্ মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ইউহয়ী ওয়া ইয়ুমীতু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাছারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ্।)
‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন। আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক। তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন; তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই শত্রু-দলগুলোকে পরাজিত করেছেন।
এরপর মারওয়ার দিকে সায়ী শুরু করুন।
ধাপ ২৯
উমরাহ – সায়ী ও দোয়া
সায়ী করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই।
নিজের হৃদয় থেকে দোয়া করুন।
কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন।
দোয়া বই দেখে পড়তে পারেন।
ঐচ্ছিক দোয়া:
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
(সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”)
দুই সবুজ বাতির মাঝে:
পুরুষরা দ্রুত হাঁটবেন (রামল)।
মহিলারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
প্রতিবার সায়ীতে সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَم
( ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’)
ধাপ ৩০
উমরাহ – মারওয়ায় পৌঁছে
মারওয়া পাহাড়ের উপরে উঠে কিবলার দিকে মুখ করে সাফার মতোই দোয়া তিনবার পড়ুন।
তারপর আবার সাফার দিকে হাঁটা শুরু করুন।
সাত চক্কর সম্পন্ন করার নিয়ম:
এই প্রক্রিয়া ৭ বার করবেন।
৭ম চক্কর শেষ হবে মারওয়ায়।
ধাপ ৩১
উমরাহ – সায়ী শেষ করার পর
২ রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন এবং দীর্ঘ দোয়া করতে পারেন।
চুল কাটা:
পুরুষরা মাথা মুণ্ডন বা ছোট করবেন (মুণ্ডন করা উত্তম)।
মহিলারা মাহরামের মাধ্যমে ১ ইঞ্চি চুল কেটে দেবেন।
অভিনন্দন! আপনার উমরাহ সম্পন্ন হলো এবং সব ইহরামের বিধিনিষেধ শেষ হয়ে গেল।
ধাপ ৩২
উমরাহর পর – উমরাহ সম্পন্ন হওয়ার পর
আপনার প্যাকেজ অনুযায়ী, হজ শুরু হওয়ার আগে (যিলহজের ৮ তারিখ পর্যন্ত) কিছু ফাঁকা দিন থাকতে পারে।
কী করতে পারেন বা সুপারিশকৃত আমল:
বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে পারেন (দল বা প্রাইভেট ট্যাক্সি দিয়ে)।
সর্বোচ্চ সময় আল-হারামে কাটান।
সুযোগ পেলেই অতিরিক্ত তাওয়াফ করুন।
হারামে নফল সালাত পড়ুন।
কুরআন তিলাওয়াত করুন।
সূরা ও দোয়াগুলো মুখস্থ করুন।
ফজর ও আসরের পর সকালের ও সন্ধ্যার আজকার পড়ুন।
ক্লান্ত হলে শুধু কাবার দিকে তাকিয়ে থাকুন।
অতিরিক্ত নফল উমরাহ:
হজের আগে করা সুপারিশ করা হয় না।
এতে শরীর ক্লান্ত হয়ে হজের ক্ষতি হতে পারে।
সব নফল উমরাহ হজের পর করতে পারেন।
#ShareThisPost #Hajj2026 #omrah #omrah2025 #Kabah #Makkah #madina #madinahalmunawwarah #ihram #hajjguide #hajj #HajjAndUmrah #hajjpackages

Hi, I wanted to know your price.
For Product details and shopping visit: aalvee.com